অবশেষে যৌন নিপীড়নকারী সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের
নিউজবিজয় প্রতিবেদক: একাধিক ছাত্রীর সাথে যৌন নির্যাতন, গোপনে ভিডিওচিত্র
ধারণ ও সে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে বহুল
সমালোচিত সেই কুলাঙ্গার শিক্ষক মেহেদী হাসান সুমনের নামে পর্নগ্রাফি
নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
আজ সোমবার (০৯ অক্টোবর)
দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানায় জনস্বার্থে এ অভিযোগ দায়ের করেন
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ মশিউর রহমান মামুন।ঐ ছাত্রলীগ সভাপতি তার অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেন, উপজেলার দক্ষিণ গড্ডিমারী
(কাজির বাজার) এলাকার পল্লী চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মেহেদী হাসান
সুমন। সে হাতীবান্ধা আলিমুদ্দিন ডিগ্রী কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক।
কলেজ রোডে অবস্থিত প্রজাপতি স্টুডিও সংলগ্ন তার কোচিং সেন্টার রয়েছে। সেই
সুবাদে সেখানে তার নিজ কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের ছাত্রীদের দীর্ঘদিন যাবত সে
প্রাইভেট পড়াচ্ছেন।
ঐ ছাত্রীদের মধ্যে অনেককেই ভালো ফলাফলের সু্যোগসহ নানারকম দুর্বলতার
সুযোগ নিয়ে তাদের সাথে যৌন নির্যাতন করে আসছে ঐ শিক্ষক। তাদের অজ্ঞাতসারে
উক্ত আসামী সেসব যৌন নির্যাতন গোপন ক্যামেরায় ধারণ করে রাখে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সময় ঐসব অশ্লীল ভিডিওচিত্র দেখিয়ে ঐসব অসহায় ছাত্রীদের তার সাথে যৌনকার্যে লিপ্ত হতে বাধ্য করা হয়।
এক পর্যায়ে ঐ লম্পট, দুশ্চরিত্র আসামী ঐসব অশ্লীল ভিডিওচিত্র বিভিন্ন ব্যক্তির সহিত মোবাইলে ও ইলেক্ট্রনিক ডিভাইজে শেয়ার করলে এক সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়ে যায়।
এক পর্যায়ে ঐ লম্পট, দুশ্চরিত্র আসামী ঐসব অশ্লীল ভিডিওচিত্র বিভিন্ন ব্যক্তির সহিত মোবাইলে ও ইলেক্ট্রনিক ডিভাইজে শেয়ার করলে এক সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়ে যায়।
সেই ছবি অত্র এলাকার জন সাধারণ ও অভিভাবকগণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে গণ উপদ্রব সৃষ্টি হয়।
এবিষয়ে
গত ২৪/০৯/২০১৭ তারিখে স্থানীয় ছাত্র সংগঠন গুলো উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে
কলেজ কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ দাখিল করেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ ঘটনার প্রাথমিক
তদন্ত সাপেক্ষে আংশিক সত্যতা পেলে ঐ শিক্ষককে কলেজ থেকে সাময়িক বহিষ্কার
করা হয়।
পরবর্তীতে ঐ আসামীর বিচারের দাবিতে স্থানীয় সাধারণ জনগণ
মানববন্ধসহ প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। যা ২৯/৯/১৭ তারিখি বিভিন্ন জাতীয় ও
আঞ্চলিক পত্রিকাসহ ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়।
এছাড়াও
আসামী অসৎ অভিপ্রায় অশ্লীল ভিডিওচিত্র গোপনে ধারণ করে গণউপদ্রব সৃষ্টিসহ
সামাজিক মুল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে পর্নগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে অপরাধ করেছে
সেহেতু তাহার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য দাবি জানাই ঐ
ছাত্রলীগ সভাপতি।
অপরদিকে একাধিক ছাত্রীর সাথে ঐ কলেজ শিক্ষকে
আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া, ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে কলেজ
কর্তৃপক্ষের নিকট ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ দায়ের করা ও তার
বিচারের দাবিতে মানববন্ধনের নিউজ করার স্থানীয় সাংবাদিকের নামে বাজে
মন্তব্য ও মামলা করার হুমকি দেন তার বড় ভাই “দন্ত ডাক্তার” এম,এ হাসান
সুজা।
এ বিষয়ে কলেজ শিক্ষক মেহেদী হাসান সুমনের সাথে একাধিক বার
যোগাযোগ করা হলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার পরিবার দাবী
করেছেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিত ভাবে মেহেদী হাসান সুমনের বিরুদ্ধে
অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এবিষয়ে হাতীবান্ধা থানার অফিসারস ইনচার্জ (ওসি)
শামীম হাসান সরদার ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে
বলেন, উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে এবিষয়ে আলোচনা করে ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কোন মন্তব্য নেই