বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান বাচ্চুকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ

বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান বাচ্চুকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ

বিজয় ডেস্ক: প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তে বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
 
আজ বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে দ্বিতীয়বারের মতো জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।
 
দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্ট্রাচার্য এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
 
এর আগে গত সোমবার বেসিক ব্যাংকের সাবেক এ চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। ওই দিন বেসিক ব্যাংকের কয়েক হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির বিষয়ে দুদককে যতটুকু বলা সম্ভব ছিল সব বলেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
 
বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু ও তার নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সম্প্রতি নোটিশ দেয় দুদক। অনুসন্ধান শুরু হওয়ার প্রায় ৪ বছর পর দুদক প্রথমবারের মতো তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দেয়। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের কয়েক দফা পর্যবেক্ষণের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক এমন পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়। আবদুল হাই বাচ্চুসহ পর্ষদের ১১ জনকে পর্যায়ক্রমে তলব করা হয়। ৪ ডিসেম্বর জিজ্ঞাসাবাদে উপস্থিত থাকার জন্য গত ১৮ নভেম্বর আবদুল হাই বাচ্চুর বনানীর ডিওএইচএসের বাড়ির ঠিকানায় নোটিশ পাঠানো হয়। পর্ষদের অন্য সদস্যদেরও ডাকা হয় বিভিন্ন দিনে।
 
আবদুল হাই বাচ্চুর নেতৃত্বাধীন পর্ষদ ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৩ সালের মার্চ পর্যন্ত মাত্র ১১ মাসে নজিরবিহীন অনিয়মের মাধ্যমে ৩ হাজার ৪৯৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা ঋণের নামে বিভিন্নজনকে দিয়ে দেয়। 
 
বাংলাদেশ ব্যাংক তখন তদন্ত করে বলেছিল, ৪০টি দেশীয় তফসিলি ব্যাংকের কোনোটির ক্ষেত্রেই পর্ষদ কর্তৃক এ ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পরিলক্ষিত হয় না। ই ঋণ আদায়ের সম্ভাবনাও কম।
 
বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে ২০১৫ সালের শেষ দিকে রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানায় ১৫৬ জনকে আসামি করে ৫৬টি মামলা করে দুদক। এসব মামলায় বেসিক ব্যাংকের ২৭ কর্মকর্তা, ১১ জরিপকারী ও ৮১ ঋণ গ্রহণকারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানসহ ১২৯ জনকে আসামি করা হয়। মামলাগুলো তদন্ত করছেন দুদকের ১০ কর্মকর্তা। তবে কোনো মামলাতেই আবদুল হাই বাচ্চুকে আসামি করা হয়নি। এ নিয়ে জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে অর্থনীতিবিদ, ব্যাংক খাতের বিশেষজ্ঞ এবং সর্বশেষ আদালত পর্যন্ত সমালোচনা করেন।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.