কূটনৈতিক তৎপরতা: এ মাসেই মিয়ানমারে যেতে পারেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী



জাতীয় ডেস্ক: কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে সব রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে এ মাসেই মিয়ানমারে যেতে পারেন বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের আলোচনা এগিয়ে নিতে এ মাসেই মিয়ানমারে যেতে পারেন তিনি।

আজ রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে জাতীয় চোরাচালান প্রতিরোধ সংক্রান্ত বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘মিয়ানমার সফরের বিষয়টি আগেই আলোচনায় ছিল। কিন্তু এর মধ্যে মিয়ানমারের ঘটনায় পরিস্থিতি পাল্টে যায়। তবে এ মাসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে। তাই এ মাসেই মিয়ানমার যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘৮০ হাজার রোহিঙ্গা নিবন্ধনের আওতায় এসেছে। আজকের মধ্যে রোহিঙ্গা নিবন্ধনের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যাবে। নিবন্ধনের আওতায় না আসলে সব ধরনের সহায়তা বঞ্চিত হবেন রোহিঙ্গারা।’

তিনি বলেন, ‘সীমান্তের ১৬টি পয়েন্টে স্ক্যানিং মেশিন বসানো হবে। কারণ গত বছরের তুলনায় এ বছর অস্ত্র উদ্ধার বেশি হয়েছে। মূলত পুলিশি তৎপরতার কারণে এ মাসে বেশি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা রেজিস্ট্রেশন না করলে তারা বেশি-বেদেশি কোনো ধরনের সহযোগিতা পাবে না। আমাদের দেশের প্রচলিত আইন মেনে তাদের চলতে হবে। এই বিষয়গুলো আমরা তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেহেতু লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, এ বিষয় নিয়ে (মিয়ানমার সফরে) আলোচনা হবে। এছাড়া আগে ইয়াবা চোরাচালানসহ অন্যান্য যেসব বিষয় নির্ধারিত ছিল, তা নিয়েও আলোচনা হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শনিবার পর্যন্ত ৯১ হাজার ৪০৩ জন রোহিঙ্গার নিবন্ধন হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৯ হাজার জনের নিবন্ধন করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী নতুন করে দমন অভিযান শুরুর পর ২৫ অগাস্ট থেকে পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জাতিসংঘ ওই অভিযানকে চিহ্নিত করেছে রোহিঙ্গাদের ‘জাতিগতভাবে নির্মূলের’ চেষ্টা হিসেবে।

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে আপত্তি জানিয়ে আসা মিয়ানমার সরকারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি আন্তার্জাতিক চাপের মুখে গত ১৯ সেপ্টেম্বর দেশটির পার্লামেন্টে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি বলেন, নব্বইয়ের দশকে করা প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় ‘যাচাইয়ের মাধ্যমে’ বাংলাদেশে থাকা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে তার দেশ প্রস্তুত আছে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.