ডেরার পুরুষদের খোজা করে দিতেন গুরমিত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ডেরার পুরুষ কর্মীদের খোজা করে দিতেন
ধর্ষণের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ভারতের কথিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিং।
ডেরার সাবেক সদস্য গুরদাস সিং তুরের এই দাবির সত্যতা পেয়েছে হরিয়ানা পুলিশ।
ইন্ডিয়ান
এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, রাম রহিমের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে
গ্রেপ্তারের পর তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। ওই স্বাস্থ্য পরীক্ষার
প্রতিবেদন এখন সিবিআইয়ের হাতে। সেখানে দেখা গেছে, রাম রহিমের ওই সহযোগীকে
জোরপূর্বক খোজা করে রাখা হয়েছে।
রাম
রহিমের সাজা ঘোষণার পর তার হরিয়ানায় সিরসার ডেরার সাবেক সদস্য গুরদাস সিং
তুর পুলিশের কাছে দাবি করেছিলেন, রাম রহিম তাঁর ডেরার পুরুষ সদস্যদের খোজা
করে রাখতেন। এই খোজা পুরুষদের দায়িত্ব ছিল সাধ্বীদের থাকার জায়গা পাহারা
দেওয়া।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হরিয়ানা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ডেরার গ্রেপ্তার হওয়া আরেক সদস্যকে খোজা করে রাখারও প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এ
বিষয়ে পঞ্চকুলা জেলার পুলিশ কমিশনার এ এস চাওলা বলেন, এটা খুবই স্পর্শকারত
একটি বিষয়, তাই এখনই মন্তব্য করা যাচ্ছে না। তবে হ্যাঁ, রাম রহিমের ঘনিষ্ঠ
সহযোগীদের একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে।
এদিকে
রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করার দিন তাকে নিয়ে পালাতে পরিকল্পিতভাবে
সহিংসতা ছড়িয়েছিলেন পালিত কন্যা হানিপ্রীত। আর হরিয়ানার পঞ্চকুলায় এই
সহিংসতার জন্যই তিনি ডেরা থেকে ১ কোটি ২৫ লাখ রুপি বণ্টন করেছিলেন বলে দাবি
করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হানিপ্রীত এবং ডেরার দুই সদস্য চামকর সিং ও দান
সিংকে জিজ্ঞাসাবাদে হরিয়ানা পুলিশ এই তথ্য পেয়েছে।
প্রতিবেদনে
বলা হয়, ২৫ আগস্ট দুই নারীভক্তকে ধর্ষণের অভিযোগে করা দুটি মামলায় দোষী
সাব্যস্ত করা হয় রাম রহিমকে। এরপর রোহতক শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরের
সানোরিয়া কারাগারে নেওয়া হয়। এতে রাম রহিমের সমর্থকেরা পঞ্চকুলা এলাকায়
তাণ্ডব শুরু করেন। পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে ৩১ জন নিহত ও ২৫০ জন
আহত হন। পরে গত ২৮ আগস্ট রাম রহিমকে দুটি মামলায় ১০ বছর করে ২০ বছরের
কারাদণ্ডাদেশ দেন সিবিআই আদালত।
নাম
প্রকাশ না করার শর্তে হরিয়ানা পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন,
হানিপ্রীতসহ গ্রেপ্তার অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, রাম রহিমকে দোষী
সাব্যস্ত করার দিন ডেরার সদস্য চামকর ও দান সিংকে সোয়া কোটি রুপি দিয়েছেন
হানিপ্রীত। সেই অর্থেই সেদিন পঞ্চকুলায় তাণ্ডব ছড়ানো হয়। হানিপ্রীতের আগে
চামকর ও দান সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা এখন বিচারিক হেফাজতে আছেন।
অন্যদিকে
গুরমিতের কথিত পালিত কন্যা হানিপ্রীতকে নিয়েও নানা রটনা রয়েছে। গুরমিতের
সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্কের কথা চাউর হয়েছে গণমাধ্যমে।

কোন মন্তব্য নেই