ফিল্মি সিন্ডিকেটের গোপন তথ্য জেনে ফেলায় সালমান শাহকে হত্যা, জড়িত সামিরাও’
বিনোদন ডেস্ক: ফিল্মি সিন্ডিকেটের গোপন খবর জেনে যাওয়ায় সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে
বলে দাবি করেছেন প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। তিনি বলেন,
ওই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সালমানের স্ত্রী সামিরাও জড়িত ছিল।
চট্টগ্রামে
এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান নীলা চৌধুরী। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন
সালমান শাহ ঐক্য জোট সভাপতি তানভীর সায়েম, সেক্রেটারি সালমান হায়দার,
মাশরুর চৌধুরী ও আরিফ জয়।
নীলা চৌধুরী বলেন, সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে বলে সামিরার মামি রুবি
সুলতানা বারবার বলে যাচ্ছে। তার স্বামী, ভাই, পুত্রসহ সবাই এই হত্যাকাণ্ডে
জড়িত ছিল। এ কারণে রুবির ভাই রুমিকে গুম করে হত্যা করা হয় এবং রুবির সন্তান
ভিকিকে দিয়ে হত্যার আলামতগুলো নষ্ট করে ফেলেছে সামিরা।
খুনের সাথে
জড়িত রিজভী ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে বলেছে, রুবির মতো সেও খুনের সঙ্গে জড়িত
ছিল। কিভাবে সালমান শাহকে খুন করা হয়েছে তার সম্পূর্ণ বিবরণ সে
ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দিয়েছে। দুজন আসামির জবানবন্দিতে সালমান শাহকে হত্যার
বিষয়টি উঠে এলেও এখনো কেন মামলাটিকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে
না এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।
নীলা চৌধুরী বলেন, ঘটনার
তিন দিন আগে কলকাতার নায়িকা মুনমুন সেনকে নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছিল আজিজ
মোহাম্মদ ভাই। তাদেরকে চট্টগ্রামে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছিল সামিরার মা
লুসি। সালমান তাদের অনেক পরিকল্পনার খবর জেনে গিয়েছিল। আমাকে সালমান
বলেছিল, মা আমার বউটা বোধ হয় আমাকে মেরে ফেলবে। এর তিন দিন পরই সালমানকে
হত্যা করা হয়।
তিনি আরো বলেন, ওই ঘটনার আগেও কয়েকবার সালমানকে হত্যার
চেষ্টা করা হয়। সালমান শাহর মা বলেন, ডিবি, সিআইডি আত্মহত্যার প্রতিবেদন
দিয়ে মামলাটিকে প্রহসনের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত
মামলার তদন্তভার র্যাবকে দেয়। মামলা দীর্ঘায়িত করার অভিযোগে পিপি আবু
আবদুল্লাহকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। বর্তমানে পিবিআইকে মামলাটি
তদন্তের জন্য দেওয়া হয়েছে। আমি দ্রুত এই হত্যার বিচার চাই।
এদিকে আজ
শনিবার দুপুরে নগরীর মুসলিম হলে সালমান শাহ হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ
সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজন করেছে সালমান শাহ ঐক্য জোট।
প্রসঙ্গত,
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন
ওরফে সালমান শাহ। ওই সময় এ বিষয়ে অপমৃত্যুর মামলা করেন তার বাবা কমরউদ্দিন
আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে
মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যুর মামলার
সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ
দেন আদালত। সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর
আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি।
চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান
শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম
আদালতে ওই চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে
তার বাবা কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা করেন। ২০০৩ সালের ১৯ মে
মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান আদালত। এরপর প্রায় ১২ বছর মামলাটি
বিচার বিভাগীয় তদন্তে ছিল।
২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতের
বিচারক বিকাশ কুমার সাহার কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। এ প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে
অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সালমান শাহর
মা নীলা চৌধুরীর ছেলের মৃত্যুতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন
প্রত্যাখ্যান করেন এবং বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি
দেবেন বলে আবেদন করেন।
২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ঢাকা
মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের
নারাজির আবেদন দাখিল করেন।
নারাজি আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আজিজ
মোহাম্মদ ভাইসহ ১১ জন তার ছেলে সালমান শাহর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে
পারেন। আদালত নারাজি আবেদনটি মঞ্জুর করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে
(র্যাব) তদন্তভার প্রদান করেন।
মামলাটিতে র্যাবকে তদন্ত দেয়ার
আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গত বছরের ১৯ এপ্রিল মহানগর দায়রা জজ আদালতে
একটি রিভিশন মামলা করেন। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ-৬ এর
বিচারক ইমরুল কায়েস রাষ্ট্রপক্ষের রিভিশনটি মঞ্জুর করেন এবং র্যাব মামলাটি
আর তদন্ত করতে পারবে না বলে আদেশ দেন।

কোন মন্তব্য নেই