আ.লীগ ছাড়া নির্বাচন করলে কী হবে ইনু জানেন: কাদের


বিজয় ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ইনু সাহেব অভিমান, ক্ষোভ থেকে বোমা ফাটিয়েছেন। কেন এ অভিমান? উনি নিজেও জানেন, আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন করলে রেজাল্ট কী হবে? আগে করে তো টেস্ট করেছি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের দলের শরিক, তবে নির্বাচন এক সাথে করব। সরকারের সাথে নির্বাচন করে কিছু আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তোলেন।

বুধবার কুষ্টিয়ায় জাসদের এক অনুষ্ঠানে দলটির সভাপতি হাসানুল হক ইনু আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

কুষ্টিয়ার ওই সমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে জাসদ সভাপতি ইনু বলেন, তারা সংখ্যায় বিপুল না হলেও তাদের ছাড়া ‘হাজার বছরেও’ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারবে না।

সেখানে তিনি আরো বলেন, আপনারা ৮০ পয়সা থাকতে পারেন। আপনি এক টাকার মালিক না। যতক্ষণ এক টাকা হবেন না ততক্ষণ ক্ষমতা পাবেন না। আপনি ৮০ পয়সা আর এরশাদ, দিলীপ বড়ুয়া, মেনন আর ইনু মিললে তবেই এক টাকা হবে। আমরা যদি না থাকি তাহলে ৮০ পয়সা নিয়ে আপনারা রাস্তায় ফ্যা ফ্যা করে ঘুরবেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের দলিল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ বিতরণ উপলক্ষে টিএসিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ছাত্রলীগ।

অনুষ্ঠানে কাদের বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, ওই দলটি নিজেদের অনুষ্ঠানে ‘মারামারি’ করে বলে তাদের সমাবেশের অনুমতি দিতে পুলিশও ‘ভয় পায়’। আপনারা নিজরাই নিজেদের সঙ্গে মারামারি করে, বিশৃঙ্খলা করে, পাল্টাপাল্টি চেয়ার ছোড়াছুড়ি করে সভাসমাবেশ পণ্ড করেছেন। আপনাদের অনুমতি দিয়ে পুলিশকে নিজেদের কর্তব্য পালনে হিমশিম খেতে হয়।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশ করতে চাওয়া প্রসঙ্গে কাদের বলেন, বিএনপি ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে, তারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে চাচ্ছে, সরকার দিচ্ছে না। ধৈর্য্য হারালে চলবে না। আপনারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন দ্বারে দ্বারে ধরনা দিয়েও অনেক অন্যায় নির্যাতন সহ্য করেছি। আমাদের কত মিটিং লাঠিচার্জ করে ভেঙে দেয়া হয়েছে। অফিসের সামনেও আমরা মিটিং করতে পারিনি।

অন্তর্কোন্দলে ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সংগঠনটির বর্তমান কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন এক সময়ের ছাত্রলীগ নেতা ওবায়দুল কাদের। ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উদ্দেশে তিনি বলেন, ছাত্রলীগের কর্মী পরিমাণ বেড়েছে, কিন্তু গুণগত সমৃদ্ধি নয়। গুণগত গভীরতার ঘাটতি আছে। ছাত্রলীগের কিছু কিছু ঘটনা... প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের মহাসড়ক দেশকে যে সমৃদ্ধ করছে, তাকে ম্লান করে। যদি ম্লান হয়ে যায়, তবে সেটা হবে অত্যন্ত দুর্ভাগ্য।

ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আবিদ আল হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.