যুদ্ধ জাহাজ রপ্তানি করবে বাংলাদেশ
চট্টগ্রাম: বাংলাদেশের নৌ বাহিনী ধীরে ধীরে ‘বায়ার বাহিনী’ থেকে
‘বিল্ডার বাহিনী’তে পরিণত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর
যুদ্ধ জাহাজ তৈরি করে অচিরেই তা রপ্তানির কথাও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার সকালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিকে নবীন ক্যাডেটদের
কমিশন উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে ভাষণ দিতে গিয়ে এ কথা বলেন
প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে ২৯২ জন মেইকশিফট ম্যান ও ১২ জন ডিরেক্ট এন্ট্রি অফিসার কমিশন পান। তারা প্রধানমন্ত্রীকে সালাম জানান।
কমিশন প্রাপ্তদের মধ্যে ২১ জন নারী কর্মকর্তা। একে খুশি হওয়ার কথা
জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা আমাদের দেশে নারীর ক্ষমতায়নে একটা বিরাট
দৃষ্টান্ত।’
বেলা ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী নেভাল একাডেমিতে পৌঁছেন। এরপর তিনি খোলা জিপে করে প্যারেড পরিদর্শন করেন।
এরপর নবীন ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে রাখা বক্তব্যে তাদেরকে দেশপ্রেমে
উদ্বুদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় কাজ করতে এবং বাহিনীর শৃঙ্খলা মেনে চলার
নির্দেশ দেন।
সরকার নৌ বাহিনীর উন্নয়নে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তারও বর্ণনা দেন
প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি বাংলাদেশের যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতা অর্জন
নিয়েও কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নৌ বাহিনীকে আরও আধুনিকায়ন করা ও যুগোপযোগী
করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। এই বাহিনীর কাঠামোগত উন্নয়নের
লক্ষ্যে পটুয়াখালীতে এভিয়েশন সুবিধা সম্বলিত নৌ বাহিনীর সর্ববৃহৎ নৌ ঘাঁটি
এবং ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নৌ ঘাঁটি নির্মাণের কাজ চলছে।’
‘সাবমেরিনের সুষ্ঠু পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং জেটি সুবিধা প্রদানের
জন্য কুতুবদিয়ায় আমরা একটি সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মাণের কাজও এগিয়ে নিয়ে
যা্চ্ছি। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সন্দ্বীপ চ্যানেলে জাহাজের সুবিধা সম্বলিত
ফ্লিপ সদরদপ্তরের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে সমুদ্র এলাকায় সার্বিক
নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
খুলনা শিপইয়ার্ড ও নারায়ণগঞ্জের ডক ইয়ার্ড নৌ বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া
এবং খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত যুদ্ধজাহাজ ‘দুর্গম নিশান’ এর নৌ বহরে কমিশন
পাওয়ার কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

কোন মন্তব্য নেই