রোহিঙ্গা নিধন : মিয়ানমার জেনারেলের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে সহিংসতার পর রোহিঙ্গাদের ওপর নিধনযজ্ঞ শুরু করে
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা ওধর্ষণ থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে
সাড়ে ৬ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ এ ঘটনাকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের
‘পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ’ বলে উল্লেখ করেছে। একে নিধনযজ্ঞ বলেছে
যুক্তরাষ্ট্রও।
মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে মং মং সোর বিরুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্র আগেই তাকে কালোতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল।
এক বিবৃতিতে মার্কিন ট্রেজারি জানায়, মং মং সো রাখাইনে রোহিঙ্গা
নিধনযজ্ঞের সঙ্গে জড়িত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বাক্ষরিত
একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
গত মাসে তাকে তার পোস্ট থেকে বদলি করা হয়েছে। কিন্তু সেজন্য কোনও কারণ
দেখাতে পারেনি মিয়ানমারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
রেক্স টিলারসনের মিয়ানমার সফরের পর প্রথম জেনারেল হিসেবে নিষেধাজ্ঞার কবলে
পড়লেন মং মং সো। মার্কিন ট্রেজারি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র সরকার মং মং সোর
বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পেয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা,
যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে। তার সেনারাই রোহিঙ্গা গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে যার
ফলে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেছেন, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে
যুক্তরাষ্ট্রে মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে মার্কিন প্রতিশ্রুতি প্রতিষ্ঠা
পেল।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই উদাহরণ তৈরি করতে হবে। আজকের
ঘোষণার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র উদাহরণ তৈরি করল যে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী ও
দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
টেজারি দফতরের মন্ত্রী স্টিভেন টি মনুচিন বলেন, ‘আজ যুক্তরাষ্ট্র
মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে
মার্কিন সহায়তা বন্ধ তরে দেওয়া হয়েছে। তাদের সব সম্পদ জব্দ করছে ও তাদের
কার্যক্রমের নিন্দা জানাচ্ছে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বার্তা দিচ্ছে যে
অন্যায়কারীরা কখনো পার পাবে না।

কোন মন্তব্য নেই