রসিক নির্বাচন নিয়ে বিএনপি'র দুই নেতার দুই সুর

রসিক নির্বাচন নিয়ে বিএনপিতে দুই সুর

বিজয় ডেস্ক: রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে দুই রকম কথা এসেছে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় দুই নেতার কাছ থেকে। রসিক নির্বাচনকে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী কারচুপির নির্বাচন বললেও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মূল্যায়ন উল্টো। তিনি মনে করেন, এই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। তবে তিনি এমনও বলেছেন যে, রংপুরের ভোটের ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশনের প্রতি তারা আস্থা জানাতে চান না।

আজ শুক্রবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরের তাঁতীপাড়ায় নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।

আগের দিন রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে সারাদেশের দৃষ্টি ছিল বিভাগীয় শহরটিতে। সাম্প্রতিককালে নারায়ণগঞ্জের পর সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পাশাপাশি হেরেছে বিএনপিও। জাতীয় পার্টির শক্তিশালী অবস্থান থাকা এলাকাটিতে দলের প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জিতেছেন প্রায় এক লাখ ভোটের ব্যবধানে।

ভোটে হেরেও ফলাফলকে স্বাগত জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ফলাফল আসতে থাকার সময় পরাজয় যখন নিশ্চিত প্রায় তখন বলেছিলেন, ভোটে হারলেও রাজনৈতিক জয় তাদেরই হয়েছে।

এই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কাওসার জামান বাবলা হয়েছেন তৃতীয়। যদিও দলটির নেতারা সুষ্ঠু ভোট হলে জয়ের আশা করছিলেন।

অবশ্য ভোট চলাকালে কোনো গোলযোগ বা অভিযোগ শোনা না গেলেও ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন কারচুপির। আর রাতে ভোটের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন বিএনপির প্রার্থীও।

ভোটের পর দিন ঢাকায় এক মানববন্ধনে রিজভী দাবি করেন, রংপুরে ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসী ও তার সহযোগীরা কেন্দ্র দখল করে সিল মেরেছে। গণমাধ্যম কর্মীদের সব কেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়ায় তারা এসব চিত্র তুলে ধরনে পারেনি বলেও দাবি তার।

রিজভী রংপুর নির্বাচন প্রসঙ্গে ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি সূক্ষ্ম কারচুপি করাবেন, প্রকাশ্যে আপনি সন্ত্রাসী করে একের পর এক কর্মকাণ্ড করবেন, আপনি ইলেকশনগুলো দখল করে নেবেন… গতকাল রংপুর সিটি করপোরেশ নির্বাচনে কি হয়েছে এটা জনগণ জানে।’

এই সরকারকে একদিন সব কিছু ‘হিসাব দিতে হবে’ বলে হুঁশিয়ার করেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব।

তবে ঠাঁকুরগাওয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সব মিলিয়ে রংপুর সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।’ তবে রংপুরে ভোট সুষ্ঠু হলেও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা রাখতে চান না তিনি।

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের প্রার্থীকে প্রচার চালাতে দেওয়া হয়নি, পুলিশ বাঁধা দিয়েছে- এসব ঠিক। তারপরও সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ যে ভোট হয়েছে, তার ফল মেনে নেওয়া উচিৎ।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের গঠন প্রণালীই হচ্ছে ভুল। দেশের বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের নিয়ে, যাদের প্রতি সকলের আস্থা আছে তাদের নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেছিলাম। নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক সংগঠন, কাউকে তুষ্ট করার তার প্রয়োজন নেই। কারণ তারা যখন যে দলের সাথে কথা বলেছেন, তখন তাকেই সন্তুষ্ট করেছে।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নে বিএনপি মহাসচিব ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচনের আগে কতগুলো ঘটনা ঘটেছে, পুলিশ বাধা দিয়েছে, ঠিকমত নির্বাচনের প্রচার করতে দেয়নি। অন্যান্য দলকে যেখানে প্রচার চালাতে বেশি সময় দিয়েছে, তখন আমাদের দলকে বেশি প্রচারনা করতে দেয়নি। এগুলো সমস্যা ছিলই।’

‘বাট ওভারঅল, বিষয়টা যেটা চিল, নির্বাচনটা মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হয়েছে আর কি’-যোগ করেন তিনি।

নির্বাচনের আগে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচার চালাতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচনের আগে যে গতি থাকার কথা, তা তিনি সেখানে দেখেননি। সেখানে নির্বাচন নিয়ে কোনো উত্তেজনা ছিল না।’

এর দুটো সম্ভাব্য কারণও বলেছেন বিএনপি মহাসচিব। তার মতে, রংপুরে কোনো দলেরই খুব বেশি ‘সুইটেবল’ প্রার্থী ছিল না। আর দ্বিতীয় কারণটা হতে পারে ‘এরশাদ সিনড্রোম’।

ফখরুল বলেন, ‘এরশাদ সাহেব নিয়ম ভঙ্গ করে আগের দিন আমার সঙ্গেই গেছেন রংপুরে। উনি সারা রাত ছিলেন, রংপুরে ছিলেন, ভোট টোট দিয়ে এসছেন। তার উপস্থিতিটাই সেখানে কাজ করেছে বলে আমার মনে হয়। তবে আমি মনে করি, সবমিলিয়ে নির্বাচনটা সকলেরই গ্রহণ করা উচিৎ।’

বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আবুল কালাম আজাদসহ ঠাকুরগাঁও বিএনপির নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পরে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার উদ্দেশে রওয়ানা দেন মির্জা ফখরুল।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.