নিখোঁজ বিএনপি নেতা আবু’র দাফন সম্পন্ন
আব্দুল মজিদ, কেশবপুর: যশোর-৬ কেশবপুর আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও মজিদপুর ইউ’পি চেয়ারম্যান আবুবকর আবু’র লাশ ২৩ নভেম্বর বিকেলে কেশবপুরে তার বাড়ি বাগদহা গ্রামে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। জানা গেছে, গত ১৮ নভেম্বর রাতে রাজধানীর পল্টন এলাকার হোটেল থেকে নিখোঁজের লাশ সনাক্ত হয় ৪ দিন পর মিডফোর্ড হাসপাতালের মর্গে। ১৯ নভেম্বর বেলা ১টায় তার লাশ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা এলাকার বুড়িগঙ্গা নদী থেকে উদ্ধারের পর ওই লাশ পুলিশ ময়না তদন্তের জন্যে পাঠায় হাসপাতালে। এরপর খবর পাওয়া যায় চেয়ারম্যানের লাশ পড়ে আছে হাসপাতালে। ২২নভেম্বর রাত ৮টার দিকে মর্গে লাশ দেখে আবুবকর আবুর লাশ বলে সনাক্ত করেন তার ভাতিজা হুমায়ূন কবির। পরদিন লাশ দেখার অপেক্ষায় নিহতের বাড়িতে হাজার-হাজার মানুষ জড়ো হয়। ২৩ নভেম্বর দুপুরে নিহতের লাশ কেশবপুর সহ গ্রামের বাড়ি সংলগ্ন মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে প্রথমে পৌঁছানোর পর তার রাজনৈতিক দলের কর্মীসহ দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষ লাশবাহী গাড়ীর উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে। একই সাথে কান্নার রোল পড়ে যায়। এরপর সেখান থেকে নিজ বাড়িতে নেয়ার পর তার আত্নীয় স্বজন হাজারো মানুষ কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তাকে শেষ বারের মত দেখার জন্য। শহরের পাবলিক ময়দানে বিকেল সাড়ে ৩ টায় হাজার-হাজার মানুষের উপস্থিতে জানাযা নামাজের পূর্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানূর রহমান, বিএনপির খুলনা বিভাগীয় কমিটির সহসাংগঠণিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সাবেরুল হক সাবু, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও উপজেলা সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ, স্বেচ্চাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র আব্দুস সামাদ বিশ্বাস, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা, অ্যাড. রফিকুল ইসলাম পিটু, সাংগঠণিক সম্পাদক কাউন্সিলর বিপুল সিদ্দিকী, জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমীর অধ্যাপক মোক্তার আলী, উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অ্যাড, আব্দুল মজিদ ও মরহুমের ভাতিজা হুমায়ুন কবির। স্মরনকালের সর্ববৃহত এই জানাজার নামাজের ইমামতি করেন কেশবপুর কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল জলিল। মরাদেহে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এলাকার এমপি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেকের পক্ষে জেলা পরিষদ সদস্য হাসান সাদেক। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে লাশের কফিনে ফুল দেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় কমিটির সহসাংগঠণিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বক্তারা তাদের বক্তব্যে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আবুবকর আব’ুর খুনীদের বিচারের দাবী জানান। তার কফিনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহমান ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহিন পুষ্পার্ঘ অর্পন করেন। আসরের নামাযের পর বাগদহ গ্রামে দ্বিতীয় জানাযা শেষে পারিবারিক কবর স্থান কেশবপুর-সাগরদাঁড়ি সড়কের পাশে পিতা-মাতার কবরের পাশে তার লাশ দাফন করা হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী আবুবকর আবু গত ১২ নভেম্বর ঢাকায় যান। ১৯ নভেম্বর সাক্ষাৎকার বোর্ডে অংশ নেয়ার জন্য পল্টন এলাকার মেট্রোপলিটন হোটেলের ৪র্থ তলায় ৪১৩ নং রুমে অবস্থান করছিলেন। ১৮ নভেম্বর রাত ৮টার পর তাকে আর পাওয়া যায়নি। এরপর একটি মোবাইল ফোন থেকে কেশবপুরে তার এক ভাগ্নের কাছে ফোন দিয়ে তার জন্য মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সোমবার সকালে অপহরণকারীদের দেয়া বিভিন্ন নম্বরে এক লাখ ৭০ টাকা বিক্যাশ করেও তাকে বাঁচানো যায়নি। অবশেষে তার লাশ দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানাধীন বুড়িগঙ্গার চর খেজুর বাগ বেবী সাহেব ডগাইয়ার্ড সংলগ্ন পানিতে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার হয়।


কোন মন্তব্য নেই