কালাইয়ে পুলিশের পিটুনিতে এক আওয়ামী লীগ কর্মীর মৃত্যু, আহত ১৩ : চার পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজ্ড
কালাই(জয়পুরহাট)প্রতিনিধি: জয়পুরহাটের কালাই থানা পুলিশ উপজেলার হরেুঞ্জাগ্রামে নারী নির্যাতন মামলার এক আসামীকে ধরতে গিয়ে ওই পরিবারের সদস্যদের গণহারে পিটালে ঘটনাস্থলেই সাইদুর রহমান(৪০) নামে এক ব্যাক্তি মারা যায় । এ সময় পুলিশের পিটুনিতে আসামী শাপলার ভাই ফেরদাউস, ফিরোজ ও রবিউলসহ তছকিন, মেহেদুল, জায়েদা, নাদিরা ও মাছুদা আহত হয়। সোমবার ভোর রাত ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এসআই রফিক ও আসাদুজ্জামান এবং কনস্ট্রেবল রাশেদুল ও সেলিম রেজাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী, পুলিশ ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হরেুঞ্জাগ্রামে নারী নির্যাতন মামলার আসামী শাপলা হোসেনকে ধরার জন্য তার বাড়িতে ভোর রাত ৪টার দিকে পুলিশ সদস্য এসআই রফিক ও আসাদুজ্জামান এবং কনস্ট্রেবল রাশেদুল ও সেলিম রেজা অভিযান চালায়। এ সময় আসামীর পরিবারের লোকদের সাথে পুলিশের কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা আসামী পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যদের বেদম প্রহার করে। এ সময় আসামী শাপলার চাচা সাইদুর ঘটনাস্থলে পৌঁছে মারপিটের কারণ জানতে চাইলে পুলিশ তাকেও মারপিট করে । এতে গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। নিহত সাইদুর আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী বলে জানা গেছে। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশ দ্রুততার সাথে লাশ উদ্ধার করে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনে। খবর পেয়ে ওসি নুরুজ্জামান চৌধুরী সঙ্গীয় ফোর্সসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছেন।
এদিকে খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত গ্রামবাসী ও জনতা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘেরাও করে। এ সময় ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য অবরুদ্ধ হন। উত্তেজিত জনতারা ওই পুলিশ সস্যদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করে এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের কলাপসিবল গেট ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউএনও, পৌরসভার মেয়র, সিভিল সার্জন ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। উত্তেজিত জনতা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে থাকা পুলিশের ব্যবহৃত মাইক্রোবাসসহ অন্তত চারটি মটর সাইকেল ভাংচুর করে। এভাবে পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য রিজার্ভ ফোর্সসহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে অপরাধী পুলিশ সদস্যদের বিচারের আশ্বাস দিয়ে হ্যান্ড মাইকিং করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য পুলিশ অন্তত ৩০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে এবং কাঁদুনি গ্যাস ছোঁড়ে। এ সময় উত্তেজিত জনতাও পাল্টা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এভাবে জনতা ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটতে থাকে। এতে এএসআই শফিকুল ও শহীদুল ইসলাম এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিকিউরিটি গার্ড মৃত নগেনচন্দ্রের ছেলে ক্ষিতিশচন্দ্র জনতার ছোঁড়া ইট ও লাঠির আঘাতে আহত হন। অন্যদিকে পুলিশের নিক্ষিপ্ত বারার বুলেটে আহত হন পথচারী কালাইয়ের শরাফতের ছেলে মাছ ব্যবসায়ী রশিদুল, কাপড়ের দোকানের কর্মচারী হারুঞ্জার আশরাফ আলীর ছেলে সাইদুর, বালাইটের মৃত ছালমের ছেলে সামছদ্দিন। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় উপজেলা স্বস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে লাশ ময়না তদরন্তর জন্যে মর্গে প্রেরণ করা হয়।
হারুঞ্জা গ্রামের আসামী শাপলার মা জায়েদা, ভাই ফিরোজ; নিহত সাইদুরের স্ত্রী নাদিরা বেগম, চাচাত ভাই তছকিন, ভাগ্নি জামাই মেহেদুলসহ অনেকে জানান, ভোর রাত ৪টার দিকে চার জন পুলিশ আসামীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। এ সময় তাদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তারা নারী-পুরুষ সকলকে বেধরক মারপিট করে। এ সময় সাইদুর ঘটনাস্থলে আসলে তাকেও মারপিট করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। এ ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের শাস্তিরও দাবি জানান তারা।
কালাই পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার হালিমূল ইসলাম জন বলেন, পুশিশের বারাবারি জন্যে আমরা আওয়ামী লীগের এক সক্রিয় কর্মীকে হারালাম। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচার দাবি করছি।
ইউএনও মো. আফাজ উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতাকে প্রশমিত করার চেষ্টা করা হয়।
উপজেলা পরিষদের মেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলন জানান, ঘটনাটি অনাকাক্সিক্ষত ও অন্যায়। এর সুষ্ঠু তদন্ত ও সঠিক বিচার প্রত্যাশা করছি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন জানান, উপজেলার হারুঞ্জা গ্রামে পুৈিশ আসামী ধরতে গেলে সাইদুরসহ অন্যান্যদের সাথে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সাইদুর পুলিশের উপর চড়াও হলে অনাকাক্সিক্ষত এ ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে রাবার বুলেট ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। তবে অপরাধি যেই হোক, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


কোন মন্তব্য নেই