গোবিন্দগঞ্জে নদীর বাঁধ থেকে ইট ভাটায় মাটি কাটায় আবারও বাঁধ ধ্বসের আশংকা


গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ফুলবাড়ী-দরবস্ত-তালুকানুপুর ইউনিয়নের মোহনায় সাপগছি হাতিয়াদহ গ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধের পয়েন্টে নির্বিচারে স্কেপেটার দিয়ে মাটি কেটে ইটের ভাটায় নিয়ে যাওয়ায় আবারও বড় ধরনের ক্ষতির আশংকা দেখা দিয়েছে।এ বন্যায় করতোয়া নদীর পানির তীব্র স্রোতে এলাকাবাসী ও প্রশাসনের শত চেষ্টায় রক্ষা হয়নি সাপগছি হাতিয়া দহ বাঁধ।বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় দরবস্ত,ফুলবাড়ীও তালুকানুপুর ইউনিয়ন।ক্ষতিগ্রস্থ হয় হাজার হাজার মানুষ।

ঐ এলাকার বাসিন্দা মো. আজহার আলী জানান,বালুয়া বাজার সৃতি সৌধ থেকে২ কিলোমিটার এই বাঁধটির ক্ষতিগ্রস্থ পয়েন্ট ও চটকলের সরকারী জমি থেকে স্কেপেটার দিয়ে ট্রাক্টর,ট্রলি,ট্রাক দিয়ে এমন ভাবে মাটি কেটে ইট ভাটায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দেখলে মনে হবে এ যেন মাটি কাটার মহাউৎসব চলছে।পথচারী মো.হায়দার আলী জানান,এই বাঁধটি দিয়ে প্রভাবশালীরা এই মাটি কেটে আনা নেয়া করায় বাঁধটির বিভিন্ন স্থানে ডেবে নষ্ট হয়ে গেছে।গত কয়েকদিন থেকে এই ভাবে মাটি কেটে ইট ভাটায় নেয়ায় এই বাঁধের সড়কটি চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।কলেজ ছাত্র সোহেল জানান,প্রতিদিন প্রায় ৩’শ থেকে ৪’শ ট্রাক্টর ও ট্রলি দিয়ে মাটি কেটে ইট ভাটায় নেয়ায় বাঁধের সড়টি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে প্রায়ই দুঘর্টনা ঘটছে।আগে এই সড়কদিয়ে অটো ভ্যান চলতো,এখন সড়কটি খারাপ হওয়ায় ভ্যান,রিক্সাও চলে না।প্রতিদিন ধুলাবালির মধ্যে বহুপথ অতিক্রম করে কলেজ করতে হয়।ওই গ্রামের আব্দুল হান্নান জানান, যারা মাটি কেটে ইটভাটায় নিচ্ছে তারা খুবই প্রভাবশালী তাই এলাকাবাসী এত ক্ষতির পরেও ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়না।

তিনি আরও বলেন, নির্বিচারে মাটি কাটায় একদিকে সড়ক যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বাড়ী,ঘর ডেবে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। ৩৩ হাজার ভেল্টের টাওয়ারসহ পল্লী বিদ্যুতের খাম্বা ঝুঁকির মধ্যে আছে। এবং বাড়ী ঘরের আশ পাশের ভূমি ফাঁটল দেখা দিয়েছে।সরেজমিনে গেলে দেখা যায়,এই ক্ষতি থেকে বাঁচতে এলাকাবাসী প্রতিকারের আশায় সড়কে মাঝে চলাচলের যায়গা রেখে বাঁশ গেরে ট্রাক,ট্রাক্টর যাওয়ার প্রতিবন্ধকতা তৈরী করলেও তা তুলে ফেলে ট্রাক্টর দিয়ে মাটি আনা নেয়া করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাটি কাটা সরদার জানান,বাঁধের মাটিগুলি কেটে ইট ভাটায় দেয়া হচ্ছে।আর মোমতাজ ও তার ছেলে এই মাটি বিক্রি করছে।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শীলাব্রত কর্মকার ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসীর অভিযোগ শুনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.