কেশবপুরে পরিবেশ আইন না মেনে চলছে ইটভাটা কার্যক্রম
আব্দুল মজিদ, কেশবপুর ( যশোর ) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে পরিবেশ আইন’ ২০১৩ না মেনে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১৫টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। ভাটাগুলোর ধুলা-বালি আর দূষিত ধোঁয়ায় পাশ্ববর্তি স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী ও জনবসতিপূর্ণ এলাকার অধিবাসীরা হাঁপানি শ্বাস কষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আশপাশের ফলজ বৃক্ষসহ ফসল উৎপাদনও ব্যহত হচ্ছে। ভাটার ইট বহনকারী ভারী যান চলাচলের ফলে গ্রামীন অবকঠামোয় গড়ে উঠা রাস্তাগুলো দ্রুত ভেঙ্গে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ভাটা মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ আমলে নেন না। পরিবেশ আইন’১৩ প্রয়োগে তাদের নেই কোন জোরাল ভূমিকা। জানা গেছে, ২০১৩’র পরিবেশ আইনানুযায়ী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত উপজেলা, ইউনিয়ন বা গ্রামীন সড়কে ভারী যান ব্যবহার করে ইট বা ইটের কাঁচামাল বহন, জনবসতিপূর্ণ এলাকা, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক কি.মি. এবং উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন বা গ্রামীন সড়ক হতে আধা কিলোমিটারের মধ্যে কোন ফসলী জমি নষ্ট করে ইটভাটা নির্মান করা যাবে না। এসব বিধান থাকলেও ইতোমধ্যে এ উপজেলার ১টি পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়নে নতুন পুরাতন মিলে প্রায় ১৫টি ইট ভাটা গড়ে উঠেছে। এতে পরিবেশের উপর প্রভাব বিরূপ পড়ছে । কয়েকটি ভাটার স্থানীয় পর্যায়ের অনুমোদন থাকলেও নতুন ভাটাগুলোর কোন অনুমোদন নেই। কয়েকজন প্রভাবশালী মালিক রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাব খাঁটিয়ে ভাটা নিয়ন্ত্রন আইনের তোয়াক্কা না করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের জনবসতিপূর্ণ ও ফসলী জমি লীজ নিয়ে নতুন ভাটা নির্মানের কার্যক্রম শুরু করেছেন। এরমধ্যে নতুন নির্মানাধীন ভাটা উপজেলার সাতবাড়িয়া সুপার ব্রিক্স, পৌরসভার ভোগতি নরেন্দ্রপুর গ্রামে জামান ব্রিকস, ও কাঁস্তা বারুইহাটী চৌরাস্তা মোড়ের রোমান ব্রিকস অন্যতম। এছাড়া পুরাতন ভাটা গুলি হচ্ছে পৌরসভার বালিাডাঙ্গা খাঁন ব্রিকস, বেগমপুর রিপন ব্রিকস্, সাতবাড়িয়া রহমান ব্রিকস্, আলম ব্রিকস্, বায়সা কালীবাড়ী গাজী ব্রিকস্, গোল্ড ব্রিকস্, দোরমুটিয়া কেশবপুর ব্রিকস্্, সন্ন্যাসগাছা বিবি, বিউটি ও এসএস ব্রিকস্, আগরহাটী এমটিসি ব্রিকস্, বগা বিএসবি ব্রিকস সহ প্রায় ১২টি ভাটায় ইট উৎপাদন চলছে। এসব ভাটার পরিবেশ আইন’১৩ অনুযায়ী নেই কোন ছাড়পত্র। উপজেলার আলম ব্রিকস এর স্বত্ত্বাধিকারী সাইফুল ইসলাম বলেন, ’২০১৩ সালের আগের নীতিমালা অনুযায়ী তিনি ভাটা করেছেন। সে সময়ের বৈধতার সকল কাগজপত্র তার রয়েছে। উপজেলার রহমান ব্রিকস্, এর স্বত্ত্বাধিকারী মো. রেজাউল ইসলাম বলেন আমার কাছে ভাটা করার সব পেপারস আছে। সাতবাড়িয়া সুপার ব্রিক্সস বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসীর পক্ষে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদনকারী আবুল বাশার সাংবাকিদের জানান যে দপ্তরে যাই তারা বলেন ভাটা হওয়ার কোন সুযোগ নাই অথচ ভাটা নির্মানের কার্যক্রম চলিয়ে যাচ্ছে। সাতবাড়িয়া সুপার ব্রিক্স এর স্বত্ত্বাধিকারী ফারুক হোসেন বলেন কিছু দিক নির্দশনা পেয়েছি তাই কাজ শুরু করেছি। কাঁস্তা বারুইহাটী চৌরাস্তা মোড়ের রোমান ব্রিকস বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসীর পক্ষে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন কারী মো. নুর আলী মোড়ল বলেন ভাটা বন্ধ করতে যেয়ে আমরা মার খেয়েছি এমনকি আমাদের নামে মামলাও করেছে ভাটা মালিক কিন্তু কোন ফল পাইনি। এ ব্যাপারে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (উপসচিব) মো. মঞ্জুরুল হাফিজ সাংবাদিকদের বলেন, নতুন ভাটার কার্যক্রম চালানোর জন্য মন্ত্রী মহোদয় কোন অনুমতি দেননি। কোন একদিন দেখা যাবে ইট ভাটা সব ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান জানান, আমি দেশের বাইরে ছিলাম এসে শুনেছি নতুন ভাটার কার্যক্রম চলছে । আমি সহকারী কমিশনার (ভুমি) কে বলে দিয়েছি সেখানে গিয়ে ভাটা বন্ধ করে তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়ার জন্য। যশোর পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র কেমিস্ট মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, আমি ২ মাস যশোরে এসেছি আসার পর আমার কাছে সাতবাড়িয়া সুপার ব্রিক্স এর আবেদন এসেছে আমি সেটা না করে দিয়েছি। ২০১৩ সালের ইট ভাটা নিয়ন্ত্রন আইনটি ’২০১৪ সালে জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। এর আগে নির্মিত যে ভাটাগুলোর বৈধতা রয়েছে পরিবেশ আইন না মেনে আপত্তিকর স্থানে যেসব ইটভাটা আছে অথবা তৈরী হচ্ছে সেগুলো দ্রুত আইনের আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


কোন মন্তব্য নেই